মিয়ানমার সেনা অভ্যুত্থান: এনএলডি’র সদর দপ্তরে সেনা তল্লাশি, সৈনিকদের কর্মকাণ্ড ক্যমেরাবন্দি, জেনারেল মিন অং লাইং কেমন মানুষ?

0
32

ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা অং সান সুচি’র এনএলডি জানিয়েছে যে, দেশটির সেনাবাহিনী তল্লাশির সময় তাদের দলের সদর দপ্তরে সব কিছু তছনছ করে ফেলেছে। মঙ্গলবার রাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের দরজা ভেঙ্গে সেখানে প্রবেশ করে। ঘটনাটি উঠে এসেছে বিবিসি বার্মিজ বিভাগের একটি প্রতিবেদনে।

তবে দলটির কোন নেতাকর্মী এসময় সেখানে ছিলেন না। দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ এনএলডিকে সরকার থেকে সরিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে এবং এর মধ্যেই সু চি’র দলীয় দপ্তরে এ হামলার ঘটনা ঘটলো।

সাধারন জনগন অং সান সু চি ও তার দলের নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবিতে চারিদিকে আন্দোলন করছে। এই অভ্যুত্থানের একটি চিত্র ক্যমেরাবন্দি করে সেখানকার একজন ফিটনেসের প্রশিক্ষক। হাত পা ছোড়া ছুরি করে নাচের অনুশীলন করছিলেন মিয়ানমারের ফিটনেস প্রশিক্ষক খিন নিন ওয়াই। ভাগ্যক্রমে এই শরীরচর্চা তিনি তার দেশের অসাধারন একটি দিনেই করছিলেন। সোমবার সকালে তিনি তার এই প্রশিক্ষনের ভিডিওটি ফেইসবুক পেইজে আপলোড করেন। হঠাৎ করে দেখলে এটিকে একটি সাধারন নাচের ভিডিওই মনে হয় কিন্তু ক্যাল করলে বোঝা যায় যে প্রশিক্ষকের পিছনে সশস্ত্র বাহিনীর একটি সম্পূর্ণ বহর সামনের দিকে এগিয়ে চলছে ধীরে ধীরে যা কোনো দিক দিয়েই সাধারন ছিলো না।

সেসময় মিয়ানমারের সামরিকবাহিনী একটি সেনা অভ্যুত্থান প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল, অং সান সু চিসহ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তার দলের অন্য নেতাদের গ্রেফতার করছিল। এর পরে সামরিক বাহিনী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং দেশটিতে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে। এর মধ্যেই মিস খিন গানের সুরে তার কোমর ঘুরিয়ে চলছিলেন। তিনি আসলে বুঝতেই পারেননি যে তার চারপাশে কী ঘটে চলেছে। বর্মিতমানে য়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জেনারেল মিন অং লাইং যার সাক্ষাৎকার পাবার চেষ্টা করছে সবাই কিন্তু অধিক ক্ষমতাধর হবার কারণে তার সাক্ষাৎকার পাওয়া এখন খুবই কঠিন।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাহ ফিশার ২০১৫ সালে তার একটি বিরল সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তিনি জানাচ্ছেন, সেই সাক্ষাৎকার চেয়ে প্রথম চিঠি পাঠানোর পর তার জবাব এসেছিল এক মাস পর। তার পর গভীর রাতে নেপিডোর জনমানবহীন রাস্তায়, এর পর অজানা একটি কফি শপে, বা কার পার্কে এক অচেনা ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ, ইউএসবি স্টিক হস্তান্তর – এরকম বিচিত্র সব ঘটনার ও নানা ধরনের কাঠখর পোড়ানোর পর সেই আকাংখিত সাক্ষাৎকার মিলেছিল। সেই সাক্ষাৎকারের জন্য তার সাথে জেনারেলের কোন ইমেইল বিনিময় হয়নি, সেই রহস্যময় লোকটির ফোন নম্বর বা এমনকি তার পদবী কি – তাও কখনো তিনি জানতে পারেননি। তার পরও মুখোমুখি সাক্ষাতের সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনী জেনারেল মিন অং লাইংকে একজন অসাধারন ব্যক্তিত্বের লোক বলেই মনে হয়েছিল জোনাহ ফিশারের।

মিয়ানমারের সাধারন জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বা সংযোগ বজায় রাখার জন্য ফেসবুকে তার একটি আইডি খোলা আছে যার দেখাশোনা তার সহযোগীরা করে থাকে। কিন্তু তার সেই সাক্ষাৎকারে তিনি হাসিমাখা মুখেই যে বার্তা দিয়েছিলেন – তা ছিল স্পষ্ট এবং কঠোর মিয়ানমারের রাজনীতির ওপর সামরিক বাহিনীর শক্ত নিয়ন্ত্রণ খুব শিগগীর কমানোর কোন ইচ্ছে যে তার নেই – তা তিনি পরিষ্কার শব্দে এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। মিয়ানমারে এখনো সক্রিয় আছে এমন বহু জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বর্গের সাথে যুদ্ধবিরতি বা কোন প্রকার শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে, বলেছিলেন তিনি। “এটা সময় সাপেক্ষ ব্যপার সেক্ষেত্রে ২ বছরও লাগতে পারে আবার ৫ বা ১০ বছরও লাগতে পারে – আমি সঠিক বলতে পারছি না” – বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here