পৃথিবীর বিখ্যাত কোম্পানির কুখ্যাত সব পণ্য

0
116

হ্যালো বন্ধুরা বর্তমান বিশ্বে ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি নানা ধরনের জিনিস তৈরি করে ক্রমাগতই আমাদের চমকে দিচ্ছে কিন্তু তারা যে শুধু ইউজফুল জিনিসই তৈরি করছে তা নয় পাশাপাশি এমন এমন ইউজলেস জিনিসও তৈরি করছে যা দেখার পর পণ্য ব্যবহারের পূর্বে পণ্য তরি করা কোম্পানির লোকেদের কে ধরে পেটাতে ইচ্ছে করবে।

কফি কাপ আমরা সবাই চিনি এটি একটি কফির গ্লাস যা একটি ঢাকনা দিয়ে লাগানো থাকে এবং ঐ ঢাকনার মধ্যে পাইপ লাগানোর জন্য একটি ছিদ্র দেয়া থাকে যাতে পরে না যায় কিন্তু কফি কাপ টা যদি এমন হয় যার আকার দেখতে একদম মানুষের নাক ও ঠোটের মতো। হ্যা বন্ধুরা, জ্যাং নামক একজন কোরিয়ান ডিজাইনার এই কাপটি তৈরি করে। এই কাপে কফি খেতে গেলে মনে হয় আপনি কাউকে কিস করছেন। এই কফি কাপের নাম টেক কিস আউট। না জানি কাপ তৈরির সময় জ্যাং এর মাথায় কি চলছিলো। জ্যাং এর ভাস্যমতে এই কাপটি তৈরি করা হয়েছিলো সিঙ্গেল মানুষদের কথা চিন্তা করে। হবে হয়তো না হলে কোণো ডিজাইনার এমন ইউজলেস ডিজাইন কেন তৈরি করবে।

নাসা আমাদের সবার চেনা একটা প্রতিষ্ঠান যারা প্রতিনিয়ত মহাকাশ নিয়ে গবেষণার করে চলেছে। নাসার মাধ্যমে আমরা মহাকাশ সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে পারি। মহাকাশ গবেষণার জন্য নাসা ভিন্ন ভিন্ন মহাজান তৈরি করে থাকে কিন্তু এই মহাকাশ যান তৈরি করার পাশাপাশি নাসা মাঝে মাঝে অনেক ইউজলেস যানও তৈরি করে যার মধ্যে অন্যতম হলো এই এয়ার ভেইকেল অন্যতম। এট সোলার এনার্জি দিয়ে চলত এটা তৈরি করা হয়েছিলো ১৯৯৯ সালে। এখন আপনারা এটা ভাবতেই পারেন নাসা এটা দিয়ে কি করতো? আসলে নাসা এটা দিয়ে কিছুই করতে পারেনি। প্রথমেই বলেছি এটা ছিলো নাসার একটি ইউজলেস ক্রিয়েশন। ২৪৬ ফিট প্রস্থ বিশিষ্ট এই এয়ারক্রাফটি ৫০০০০ ফিট উপরে উড়তে পারতো। এই এয়ারক্রাফটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ছিলো। বাতাসের বেগ থাকলে এই এয়ারক্রাফটি উড়তে পারতো না আর এটি তৈরি করতে নাসা 1million dollar খরচ করেছে। অথচ ২০০৩ সালে এই এয়ারক্রাফটি একটি ফ্লাইটে আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে সমুদ্রে পরে যায়।

ফ্যালকন, আপনারা এ যাবতকাল অনেক প্লেনই দেখেছেন যা স্বাভাবিক ডিজাইনের হয়ে থাকে কিন্তু ফ্যালকন এমন একটি প্লেন যা অন্যান্য প্লেন গুলো থেকে আলাদা। এই প্লেন্টিকে দেখলে মনে হয় যেন এই প্লেনকে কোন বিশালাকার ভিম্রুল কামড় দিয়েছে যার কারণে এর সামনের অংশ এভাবে ফুলে গিয়েছে কিন্তু না ভিউয়ারস কোন ভিমরুল নয় এই প্লেনকে তার ডিজাইনার কামড় দিয়েছে। এটা দেখতে অদ্ভুত হলেও এটা কিন্তু মিলিটারি প্লেন, ১৯৯৪ সালে সারভিলেন্সের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিলো। আর এর অদ্ভুত ফোলা অংশটি ছিলো একটি ৩৬০ ডিগ্রী রাডার। এর সামনের অংশটুকুই শুধু উইয়ার্ড না, এর ফার্স্ট ক্লাসের আকৃতি দেখলে মনে হয় আকাশ পথে চলতে হিয়ে অন্য প্লেনের সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তায় চলা মুড়ির টিনের মতো চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছে। সে যাই হোক ভুলে যাবেন না কিন্তু এটা একটা মিলিটারি প্লেন।

জোহামেড জে ওয়ান, আমাদের বর্তমান জেনারেশনের বাইকের প্রতি অন্যরকম একটা টান থাকে আর যদি কারো টান নাও থাকে বরতমানের নতুন নতুন ডিজাইনের সব বাইক দেখে তার ও ইন্টারেস্ট জেগে যায় কিন্তু এই ধরনের বাইক দেখলে বাইক কেনার ইচ্ছাই মরে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার এক কোম্পানি এই বাইকটি তৈরি করেছিলো। এই বাইকটির ডিজাইন এতোটাই অদ্ভুত যে সামনে থেকে দেখলে মনে হয় বাইকটি পিছন দিকে চলছে। এর ফ্রন্ট হুইল সম্পূর্ণ খোলা এতে করে বৃষ্টির সময় কাঁদা পানি ছিটে গিয়ে সরাসরি রাইডারের গায়ে যেয়ে লাগবে এটাই স্বাভাবিক। তো এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চার যদি আপনি পছন্দ করে থাকেন তবে ৫৭ লাখ টাকা দিয়ে এই বাইক আপনি কিনতে পারেন।

মাল্টিপ্লা, বিভিন্ন কার কোম্পানি যখন কোনো গাড়ি তৈরি করে তখন এইটা মাথায় রেখে করে যেন তার গাড়ি দেখলে সবাই কিনতে চায়। কিন্তু মাল্টিপ্লা এমন একটি গাড়ি যা দেখতে একদমই বাচ্চাদের খেলনার মতো। এর বাইরের আকার যেমন অদ্ভুত তার থেকেও বেশী অদ্ভুত এর ভিতরের অংশ। জানিনা কি ভেবে ফিয়ার্ড কোম্পানি এমন মুরির টিন মার্কা খাপরা গাড়ি তৈরি করেছিলো তা আমার মাথায় আসে না।

বাইক চালানোর সময় আমরা সবাই হেলমেট পরে থাকি আর এই জন্যই হেলমেট তৈরির কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়তই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী হেলমেট তৈরি করে যাচ্ছে। কিন্তু এমন কিছু কোম্পানি আছে যাদের তৈরি হেলমেট পড়লে ট্রাফিক পুলিশ পেছন থেকে হুইসেল দিয়ে দৌড়ে এসে আপনাকে ধরবে কারন এই ধরনের অদ্ভুত হেলমেট পড়লে কেউ বুঝতেই পারবে না রাইডার হেলমেট পরে আছে। আবার সামনে থেকে ট্রাফিক পুলিশ দেখলে মনে করবে রাইডার হয়তো কারো মাথার চামড়া কেটে নিজের মাথায় লাগিয়ে নিয়েছে। আর এই ধরনের অদ্ভুত হেলমেট তৈরি করেছে জিও জন নামক একজন আর্টিস্ট। যিনি আপনার মাথার ছবি তুলে ঐ ছবির আদলেই তৈরি করে হেলমেট।

আনকমফরটেবল বস্তু, ডাটা সেইভ করার জন্য ইউএসবি ড্রাইভের মতো এমন সহজলভ্য ড্রাইভ আর কি হতে পারে, তাই এটাকে সব সময় সিম্পল ডিজাইনের মধ্যে স্মার্ট ভাবে তৈরি করা হয়। কিন্তু কিছু ডিজাইনারের মাথায় ক্রিয়েটিভের পোকা কিলবিল করতে থাকে যার ফলশ্রুতিতে তারা ফেক দাঁতের ভিতর এই ইউএসবি ড্রাইভটি ঢুকিয়ে দিয়েছিলো আর এটার নাম দেয়া হয়েছিলো ডান্সার ফ্লাস ড্রাইভ। প্রথমবার এটাকে কেউ দেখলে মনে করবে আপনি হয়তো আপনার দাদুর দাঁতের মাড়ি খুলে নিয়ে এসেছেন। কেউ বুঝতেই পারবেনা যে এটা কোনো ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস।

ব্যপারটি  কেমন হয় যদি আপনি দেখেন কোনো হোটেলের ম্যনেজার রান্না করার কড়াইয়ের মধ্যেই হিসাব নিকাশ করতে বসে গেছে, বিশ্বাস না হলে এই দেখুন, এই লোককে দেখে মনে হচ্ছে কড়াইয়ের মধ্যে তাকেই রান্না করা হচ্ছে আর কাস্টমাররা অধীর আগ্রহে বসে আছে তাকে খাবার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here