জানলে গা শিউরে উঠবে কি করা হয়েছিলো মারিনা আব্রামোভিকের সাথে… অবশেষে যা ঘটল…

0
38

আজ আমরা যে নারী সম্পর্কে কথা বলব সে নারী তার সহ্যক্ষমতার বাইরে টর্চার সহ্য করেছিল কারন সে পুরো পৃথিবীর সামনে এসে বলেছিল আমি তোমাদের ৬ ঘন্টা সময় দিচ্ছি তোমরা আমার সাথে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো।

মেয়েটির নাম ছিলো মারিনা আব্রামোভিক। মারিনার জন্ম ৩০ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে হয়েছিলো। ছোটবেলা তার মায়ের সাথে তার বোঝাপড়া অতটা ভালো ছিল না। কারন তার মা তাকে খুব বেশি পরিমানে মারত এবং সেটাও খুব খারাপ ভাবে। যার কারণে মারিনার মস্তিস্কে খুব গভীর এবং খারাপ একটা প্রভাব পরে কারন তাকে প্রচুর মানুশিক টর্চার সহ্য করতে হতো। তার এই সহ্যক্ষমতা তার মধ্যে একটা আর্টের সৃষ্টি করেছে।

যখন মানুষ অনেক কষ্ট পায় তখন সে কাঁদে, কবিতা লেখে, গান শুনে বা ভিন্নধর্মী কোন কিছু করে থাকে, যা সব কিছু থেকে আলাদা। এভাবেই চলতে থাকে সব কিছু। মারিনা বড় হয়ে ফাইন আর্টের ট্রেইনিং নেয় এবং সেই থেকে সে স্টেজ পারফর্ম করতে থাকে। তার কাজ ছিল স্টেজে উঠে চুপ করে দাড়িয়ে থাকা এবং মুখে কোন একটা ভাব ফুটিয়ে তোলা। তাকে তার ফেসে কখনও দুঃখ, কখনও, হাসি বা কখনও উদাসীনতা ফুটিয়ে তুলতে হতো। শারীরিক কোন অঙ্গ ভঙ্গি নয়। তবে আজ আমি তার যে পারফর্মেন্সের কথা বলতে যাচ্ছি সেটা ছিল তার জীবনের সব থেকে ভয়ংকার পারফর্মেন্স। যা ইতালিতে করা হয়েছিলো ১৯৭৪ সালে।

এটা সর্ব মোট ৬ ঘন্টার পারফর্মেন্স ছিল। তবে কিছু ফটোগ্রাফার ও কিছু অডিয়েন্স ছিল। মারিনার কাজ ছিল চুপচাপ ৬ ঘন্টা দাড়িয়ে থাকা। তার হাতে একটা কাগজ ছিল যাতে লেখা ছিলো এই হল রুমে যতো মানুষ আছে তারা ৬ ঘন্টা আমার সাথে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে, “you can do anything you want to do with me” এবং সেটার দায় ভাড় আমি নিবো।

মারিনার সামনে একটা টেবিল ছিলো যার উপর গোলাম, পালক, ব্লেড, শিকল, কনডম, ছুরি, পিন, কাটা, এবং একটি বন্দুক রাখা ছিলো। কথা ছিল এই সব জিনিস ব্যবহার করে মারিনার সাথে যা খুশি করা যাবে। যখন মারিনা এই কথা বলে যে তোমরা এই ৬ ঘন্টা আমার সাথে যা খুশি তাই করতে পারো তখন মারিনার সাথে কি হয়েছিলো তা আজ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

মারিনা সবাইকে বলে দিয়েছিল মনে করুন আমি একটা অবজেক্ট তাই আমাকে বস্তু ভেবে যা খুশি তাই করতে পারেন আর এতে আপনাদের কোন প্রকার অভযোগ করা হবে না। এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় ভাড় আমার। সময় ছিল রাত ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত। যখনই রাত ৮টা বাজল মারিনা উঠে দাঁড়ালো আর কিছু মানুষ তার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে লাগল। কেউ তাকে স্পর্শ করল তো কেউ তাকে ধাক্কা মেরে দেখল কিন্তু মারিনা কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না।

এরপর কিছু মেয়ে আসলো এবং তাকে ধরাধরি করে শুইয়ে মাটিতে আছাড় দিলো। এটা দেখে কিছু মানুষ তখন টেবিলের দিকে আসা শুরু করল। যেখানে টর্চার করার জন্য সব যন্ত্রপাতি রাখা ছিল। কিছু লোক তাকে চেয়ারের সাথে বেধে ফেললো এবং অন্য একটা লোক এসে মারিনার গলায় ব্লেড দিয়ে একটা টান মারল। কিছুক্ষন পর একটা লোক আসলো এবং মারিনার হাতে বন্দুক দিয়ে বলল নিজের দিকে বন্দুক তাক কর। এতো টুকুতেই শেষ নয়। এরপর একজন পুরুষ আসলো এবং মারিনার গায়ের সব কাপড় খুলে ফেললো এবং সে মারিনার সকল লুকায়িত অংশকে স্পর্শ করল। কিছু লোক তার সাথে সংগমেও লিপ্ত হয়েছিলো।

এতো কিছুর পরও মানুষের মন যখন কোন ভাবেই পূর্ণ হচ্ছিলো না তখন তারা মারিনার গায়ে কাটা ফোঁটাতে শুরু করল। এভাবেই মারিনার সেই রাতের ৬ ঘন্টার পারফর্মেন্স চলতে থাকলো। যখন ৬ ঘন্টা পূর্ণ হোল, ৬ ঘন্টায় মানুষের দ্বারা যা যা করা সম্ভব হয়েছে তার সবটুকু তারা করেছে। এবার ৬ ঘন্টা শেষে মারিনা হাটা শুরু করল। এই ৬ ঘন্টায় যারা মারিনার সাথে এই সব আচরণ করেছে অর্থাৎ তার গায়ে পানি ঢেলে দিয়েছে, কাটা ফুটিয়েছে, কাপড় খুলে ফেলেছে, ও বিভিন্ন ভাবে টর্চার করেছে মারিনা একে একে ঐ সবার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো এবং সবার চোখে চোখ রেখে দেখতে শুরু করেছিলো। এতক্ষণ যারা তাকে টর্চার করেছে, অসহ্য যন্ত্রণা দিয়েছে এখন তারাই মারিনার চোখের দিকে তাকাতে পারছিলো না। কারন কেউই তার চোখের দিকে তাকানোর মতো পরিস্থিতিতে ছিলো না।

মারিনা তার এই পারফর্মেন্স দ্বারা ঐ সব ব্যক্তিদের ভিতরকার পশুকে বাইরে বের করে এনেছিলো। মারিনা তাদের এটা দেখিয়েছিলো যে, তোমরা তোমাদের মনের ভিতর কত বড় রাক্ষসরূপি পশু লালন কর। মারিনা তার পারফর্মেন্সের দ্বারা মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সব খারাপ চিন্তা-ভাবনাকে বাইরে বের করে এনেছে।

মারিনা সমাজের ঐ রুপকে সবার সামনে আনার চেষ্টা করেছে যা আমরা হয়তো দেখেও না দেখার বা বোঝার ভান ধরে থাকি। মানুষ যখন আপনাকে দুর্বল পাবে, অসহায় দেখবে তখন আপনাকে বস্তু ভেবেই আচরণ শুরু করবে। আপনার উপর টর্চার করে তারা আনন্দ পাবে। এরা সব আমাদের মতোই মানুষ। আমরা সবাই নিজেদের মধ্যে এমনি একটা করে রাক্ষস লালন করি যা সুযোগ পেলেই বাইরে বেরিয়ে আসে। উদাহরণ স্বরূপ দুর্ঘটনা, ইভটিজিং, রেইপ, ও অন্যায় দেখে প্রতিবাদ না করে ভিডিও চিত্র ধারন করা এবং শক্তির প্রভাব দেখাতে দুর্বল ও অবুঝ পশুদের উপর অত্যাচার করা আমাদের ভিতরে থাকা পশুর একটি নমুনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here