৩৫ বছর টাইম ট্রাভেল করে ল্যান্ড করল যে বিমানটি, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভিতরে কি দেখতে পেলো?

0
99

আমরা যখন প্লেনে ভ্রমন করি তখন আমরা চিন্তা করি একটা নির্দিষ্ট সময় পর আমরা আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌছাবো কিন্তু যদি এমন হয় যে প্লেনটি আর গন্তব্যস্থলে পৌছাতেই পাড়লো না তখন?

৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ এর সকালে একটি ফ্লাইট সেন্টিয়াগো-513 এর অদৃশ্য হয়ে যাবার ঘটনাটি এখনো মানুষের কাছে রহস্যময় হয়ে রয়েছে।

১৯৮৯ সালে ট্যাবলয়েড উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সান্টিয়াগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-513 সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪ সালে পশ্চিম জার্মানির আচেন থেকে যাত্রা করেছিল এবং ১৮ ঘন্টা পরে ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।

তবে, বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে যখন যাচ্ছিল তখন মাঝ সমুদ্রে রাডার থেকে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। নিখোঁজ হওয়ার সময়, কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করেছিল যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর পরের কয়েক বছর ধরে, যাত্রীদের বা বিমানের অবশেষ অনুসন্ধান করার জন্য একাধিক অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছিল তবে কিছুই পাওয়া যায়নি।

সময় কেটে গেল এবং কয়েক দশক কেটে গেল। সান্টিয়াগো এয়ারলাইনসটি নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের মাত্র দু’বছর পরে ১৯৫৬ সালে এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমান দুর্ঘটনার প্রমাণের একক চিহ্ন খুঁজে না পেয়েও তল্লাশি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাড়ে তিন দশক পরে, ১৯৮৯ সালের ১২ ই অক্টোবর, ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে বিমানবন্দরে একটি অননুমোদিত বিমান এয়ারবেসের চারদিকে ঘুরতে দেখা গেল। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীরা পাইলটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোনও সাড়া পাননি।

অবশেষে, বিমানটি রানওয়ের কাছাকাছি এসে একটি নিখুঁত অবতরণ করল। এটি একটি সু-রক্ষণাবেক্ষণশীল আকারে দেখেছিল বিমানবন্দরের সবাই এবং বিমানের পাইলটকে কনট্রোল রুম থেকে বার বার ম্যাসেজ পাঠানো হচ্ছিল কিন্তু কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতার সাথে বিমানটির কাছে যায় এবং উদ্ধারকারী কর্মী বিমানের দরজা ভেঙ্গে বিমানের ভিতরে প্রবেশ করে। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করে যা দেখে তাতে তাদের গা শিউরে ওঠে।

তারা জাহাজে চড়া লোকেদের পুরোপুরি সংরক্ষিত কঙ্কাল (৮৮ জন যাত্রী এবং চার জন ক্রু সদস্য) তাদের আসনগুলিতে “নিরাপদে”বসা পেয়েছেন। যেহেতু বিমানটি সেইফলি ল্যান্ড করেছে তাই তারা ভেবেছে হয়তো পাইলট জীবিত আছে। কিন্তু যখন তারা ককপিটের দরজা খুলেছিল, তারা দেখেছিল যে প্লেনের পাইলট ক্যাপ্টেন মিগুয়েল ভিক্টর কুরিও একটি কঙ্কাল আকারে এখনও প্লেনের নেভিগেশন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিষয়টিকে সরকার দ্বারা আদেশের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গোপন রাখতে চেয়েছিল কিন্তু সেটা আর হয় নি। পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম এটি প্রকাশ পায় যার ফলে চারিদিকে এই খবর ছরিয়ে পরে। ভিন্ন ভিন্ন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটররা আসে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতে।

ঐ সময়ের সেরা প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর ডঃ আটেলো এই বিষয় ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, এই প্লেন একটি টাইম লুপের মধ্যে ফেসে গিয়েছিলো অর্থাৎ এই প্লেনটি এমন জায়গায় প্রবেশ করেছিলো যেখানে সময় পৃথিবী থেকে অনেক দ্রুত গতিতে অতিবাহিত হয়। এই থিওরি অনুসারে ঐ প্লেন মোটামুটি ১৮ ঘন্টাই ভ্রমন করেছে কিন্তু পৃথিবী অনুসারে তা ছিল প্রায় ৩৫ বছর। আর যখনই বিমানটি টাইম লুপ থেকে পৃথিবীতে প্রবেশ করেছে তখনই পৃথিবীর সময় অনুযায়ী সকল যাত্রীর মৃত্যু হয়ে গিয়েছে।

সবার প্রশ্ন একটাই ছিল যে একটি বিমান ৩৫ বছর কিভাবে উড়তে পারে? সেক্ষেত্রে বিমানের তেল শেষ হয়ে যাবার কথা র বিমানটি ক্র্যাশ করার কথা। কিন্তু এই থিয়োরি অনুযায়ী ঐ বিমানটি মাত্র ১৮ ঘন্টাই ফ্লাই করেছিলো। এই কারণই ছিল, যার ফলে ঐ বিমানের না তেল শেষ হয়েছিলো আর না কোন প্রকার ড্যামেজ হয়েছিলো। যখন ফুয়েল ট্যাংক পরিক্ষা করা হয়েছিলো তখন ফুয়েল ট্যাংক পুরোপুরি শুখিয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ যখন ঐ প্লেন টাইম লুপের মধ্যে ছিলো তখন সময় তাদের অনুসারেই চলছিলো। ফুয়েলও ছিল, অক্সিজেনও ছিল র সব লোক জীবিতও ছিল। কিন্তু ৩৫ সালের হিসেবে যখনই বিমানটি পৃথিবীতে প্রবেশ করল সব কিছু বদলে গেল। কারন বিমানের পাইলট ও যাত্রী যদি টাইম লুপেই মারা যেত তবে বিমানটি সেফলি ল্যান্ড করতে পারত না। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে অনেক রহস্য রয়েছে যার সমাধান এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। তাই কিছু লোক এই বিষয় বিশ্বাস করে আবার কিছু লোক এটিকে মিথ্যা মনে করে।

এখন কথা হল এই ঘটনা কতটা সত্য আর কতটা মিথ্যা?

১/ ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ এর সকালে একটি ফ্লাইট সেন্টিয়াগো-513 এর মডেলের একটি বিমান জার্মানি থেকে যাত্রা করেছিলো।
২/ বিমানে ৯২ জন যাত্রী (৮৮ জন যাত্রী এবং চার জন ক্রু সদস্য) ছিল।
৩/ বিমানটির ১৮ ঘন্টা ফ্লাই করে ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।
৪/ এটাও সত্য যে বিমানটি যখন আটলান্টিক সাগরের মাঝে পৌছেছিলো তখন বিমানটি রাডারের সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিলো।
৫/ এটাও চরম সত্য যে বিমানটি ১৯৮৯ সালের ১২ ই অক্টোবর, ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে বিমানবন্দরে ল্যান্ড করেছিলো।
৬/ কিন্তু যে পত্রিকায় এই ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছিলো যেখানে যাত্রীদের কঙ্কাল পাবার কথা উল্লেখ করা হয়নি এমনকি এই বিষয় কোন ছবিও প্রকাশ করা হয় নি।

এই ঘটনা সম্পর্কে কোন ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট পরবর্তীতে সামনে আসেনি। তার কারন এখনো জানা যায় নি। তবে কি ইনভেস্টিগেশন পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো নাকি এখানে অন্য কোন ঘটনা আছে। এই ঘটনা কি কোন সাইন্স এক্সপেরিমেন্টের ব্যর্থ ফলাফল ছিল নাকি সত্যি বিমানটি কোন টাইম লুপের মধ্যে ফেসে গিয়েছিলো। বারমুডা ট্রাইএঙ্গেলের কথা আমরা সবাই জানি যেখানে এমন অনেক বিমান ও জাহাজ হারিয়ে গেছে যার খোজ কখনই পাওয়া জায়নি। তবে কি বিমানটি বারমুডা ট্রাইএঙ্গেলের মতো কোন শক্তির স্বীকার হয়েছিলো? সব কিছুই রহস্য হয়ে রয়ে গিয়েছে। এই সম্পর্কে আপনাদের কি মনে হয়?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here