ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ৭ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

0
42

বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ৭ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করার কারণে বুধবার সকাল ৯টার দিকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। পরীক্ষা বন্ধ প্রত্যাহার করে শিক্ষা কার্যক্রম ও ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার দাবিতে শুরু হয় এই বিক্ষোভ । শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে নিউ মার্কেট-আজিমপুর সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে নিউ মার্কেট-আজিমপুর সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একটি অংশ পরে সায়েন্স ল্যাব মোড়ও অবস্থান নিলে সিটি কলেজ থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়ক বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে । ফলে আশপাশের সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট গাবতলী পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
মনজুর মোর্শেদ ঢাকা শহর তেজগাঁও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার বলেন, মিরপুর রোডে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা গাবতলী পর্যন্ত জ্যাম হয়েছে। তিনি আরও জানান , সব যানবাহনগুলোকে আমরা বিকল্প রাস্তায় বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছি ।
মিরপুরের রাস্তায় জ্যাম সাধারণত হয় তারপরও স্বাভাবিক থেকে বেশি ফার্মগেট থেকে শাহবাগ রোডের দিকে গাড়ির প্রচুর চাপ বেড়েছে।
শিক্ষার্থীদের পুলিশ সদস্যরা সড়ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য আল্টিমেটাম দিলেও শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে যায় নাই। ফলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল ও হল খুলে দেওয়ার দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বেলা সোয়া তিনটায় গুগল ম্যাপে দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর থেকে মিরপুর রোডে ল্যাব এইড পর্যন্ত সড়কটি থমকে আছে। গুগলের ম্যাপে এই সড়কের ওপর লাল চিহ্ন দেখা গেছে।
শাহবাগ, কাঁটাবন মোড়, বাটা সিগন্যাল ও রমনা পার্কের সামনের সড়ক,পর্যন্ত রাস্তায় খুব জ্যাম । এছাড়া যানজটের সৃষ্টি হয়েছে পুরান ঢাকার বংশাল, নয়াবাজার সড়কেও । জ্যামের একই অবস্থা মহাখালী থেকে সাত রাস্তা পর্যন্ত সড়কেও।
গত সোমবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, আগামী ২৪ মে রোজার ঈদের পর থেকে দেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। ১৭ মে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হওয়ার আগে বিভিন্ন আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে আর কোনো ধরনের পরীক্ষা হবে না। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা ও শিক্ষার্থীদের হল খোলার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার, সেই সিদ্ধান্তও বাতিল হবে। তবে অবশ্য অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস গুলো চলবে।
মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ কলেজের প্রধান সমন্বয়ক ও অধ্যক্ষদের সভায় ৭ কলেজের সবগুলো পরীক্ষা ২৪ মে পর্যন্ত বন্ধ করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন ।
সেইদিন রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান করে পরে ফিরে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বুধবার সকালে আবার রাস্তায় নামলে যাত্রীদের এই যানবাহনের যানজটের কবলে পড়তে হয় ।
বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা রুটিন অনুযায়ী চলমান পরীক্ষা নেওয়া এবং আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলনকারীদের প্রধান আবু বকর বলেন, ” আমাদের হঠাৎ করে চলতি পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আমাদের প্রতি খামখেয়ালি মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বুঝিয়েছে। ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছে। তাই চলমান পরীক্ষাগুলো রুটিন অনুযায়ীই ঠিক সময়ে নিতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন চলবেই।”
ইডেন কলেজের ছাত্রী মাহমুদা আক্তার বলেন,”আমাদের ফোর্থ ইয়ারের পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই পর্যায়ে এসে পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়ার কোনো মানে হয় না। ২০১৯ সালে যে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা এখনও আটকে আছে। আমরা আমাদের ক্যারিয়ার নিয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় আছি। আমরা আর কত সেশনজটে পড়ে থাকব? ”

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুপুরে জরুরি সভায় বসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here