জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল সংশোধন

0
44

আমরা আমাদের দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিতি এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেতে গেলে প্রতিটা নাগরিকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড থাকা একান্ত জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সবাই জানি সরকারি ও বেসরকারি অনেক সেবা পেতে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন হয়। আজ আমি বলব যাঁরা নতুন বা পুরনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড আছে বা করতে চান, তাঁদের অনেকেই এ বিষয় সম্পর্কে জানে না যে কীভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে ভুল হলে কি করতে হবে, এ জন্য কোথায় যেতে হবে , কী কী করা প্রয়োজন ইত্যাদি।
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে ? বা পরিচয়পত্রে ভুল তথ্য রয়েছে ? যা সংশোধন করা প্রয়োজন ? এই সমস্যায় এমন অনেকেই রয়েছে কিন্তু বুঝতে পারছে না, তাঁরা কীভাবে নতুন পরিচয়পত্র পাবে বা ভুল তথ্য ঠিক করবে । আপনাদের মনে এই তথ্য সংশোধন নিয়ে অনেক রকম প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। তাই আজ আমি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে এরকম ২২টি প্রশ্নের উত্তর জানাবো যা আপনাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের সকল প্রশ্নের সমাধান দিয়ে দিবে ।

তো প্রথমে জানতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল হলে কিভাবে সংশোধন করা যায়?

প্রথমে আপনার এনআইডি কার্ডটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য উইং বা উপজেলা বা থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে যেয়ে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। যে সব ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে সেই তথ্যের পক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ উপযুক্ত ও সঠিক কাগজপত্র আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?
হ্যা হবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের সকল সংশোধনের রেকর্ড রাখা হয় যা সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা থাকে।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে যদি ভুলক্রমে আপনার পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয় তবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য কি কি সনদপত্র জমা করতে হবে?

আপনার জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে ভোটার আইডি কার্ডে উল্লেখ করার কারণে , আপনার পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট জীবিত ব্যক্তির পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।

ধরুন আপনি অবিবাহিত ,আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে পিতার জায়গায় পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে। তখন কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে হবে ?

আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে যেয়ে আপনি যে বিবাহিত নন সেই মর্মে সকল প্রমাণ জমা দেওয়া সহ আবেদন করতে হবে।

ধ্রুন আপনার বিয়ের পর আপনি আপনার স্বামীর নাম সংযোজন করতে চান আপনার ভোটার আইডি কার্ডে , তাহলে এই সংযোজনের প্রক্রিয়া কি ?

আপনি আপনার নিকাহনামা ও আপনার স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি একসাথে সংযুক্ত করে NID Registration Wing/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে এ যেয়ে তাদের বরাবর আবেদন করতে হবে।

যদি আপনার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে সেক্ষেত্রে তখন জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড থেকে আপনার স্বামীর নাম কিভাবে বাদ দিতে হবে?
আপনার বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র (তালাকনামা) সংযুক্ত করে এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং বা সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে ও আবেদন করতে হবে।

আপানার বিবাহ বিচ্ছেদের পর আপনি যদি নতুন বিয়ে করেন তবে তখন আগের স্বামীর নামের জায়গায় বর্তমান স্বামীর নাম জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে কিভাবে সংযুক্ত করতে পারবেন ?
আপনার প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামার কাগজপত্র ও পরবর্তী বিয়ের কাবিননামার কাগজপত্রসহ একটি সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আপনার আবেদন করতে হবে।

আপনি আপনার পেশা পরিবর্তন করতে চান কিন্তু কিভাবে করতে পারেন তা জানেন কি ?
NID Registration Wing /উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে আপনার প্রামাণিক কাগজপত্র সব জমা দিতে হবে। জেনে রাখা ভাল যে , আইডি কার্ডে এ তথ্য লেখা থাকে না।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড এর ছবি অস্পষ্ট বা বুঝা যায় না আপনি আপনার ছবি পরিবর্তন করতে চান তবে কি করা দরকার?
সেক্ষেত্রে আপনার নিজে সরাসরি উপস্থিত থেকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান ভুল তা সংশোধন করতে হলে আপনার আবেদনের সাথে কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে?

আপনার ভোটার আইডি কার্ডে নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান ভুল থাকলে এসএসসি / সমমান সনদ, জন্মসনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সনদ, চাকুরীর বিভিন্ন প্রমাণপত্র, নিকাহ্নামা ও বিয়ের কাগজপত্র , পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে।

আপনার নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে?
এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/ স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি,ওয়ারিশ সনদ,ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে ।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কি কি সনদ জমা করতে হয়?
জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে যে ব্যক্তি মৃত তার সনদ জমা করতে হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে আপনার ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়?

আপনার শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারনেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে তার অবস্থান পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের মাধ্যমে আবেদন ফর্ম ফিলাপ করে সংশোধন করা যাবে।

আপনি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন ভাতা আপনার খুব প্রয়োজন। কিন্তু আপনার নির্দিষ্ট বয়স না হওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছেন না। অনেকেই বলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে?
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড এ দেওয়া বয়স প্রমাণসহ কাগজপত্র ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। জেনে রাখা ভাল যে , প্রমাণসহ কাগজপত্র তদন্ত ও পরীক্ষা করে এবং তদন্ত ফলাফল সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

আপনার একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে পিতা / মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিন্তু কিভাবে তা সংশোধন করা যায়?

সকলের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রমাণসহ কাগজপত্র আবেদন করতে হবে।

আপনি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশত আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলেন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে এখন আপনার বয়স বা আপনার অন্যান্য তথ্য সংশোধনের উপায় কি?
এখন আপনি ম্যাজিট্রেট আদালতে গিয়ে SSC পাশ করেননি এবং ভুলক্রমে এই তথ্য লিখেছিলেন এই মর্মে একটি হলফনামা করেন এবং এর কপিসহ সংশোধনের জন্য একটি আবেদন করেন তবে তা সংশোধন করা যাবে।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড এ অন্য ব্যক্তির তথ্য ভুলে চলে এসেছে। এ ভুল কিভাবে সংশোধন করা যাবে জানেন কি ?
আপনার ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ভাবে যাচাই করার পর সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা ভুল সংশোধনের জন্য কি করতে হবে?
আপনার রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা ভুল সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনোসটিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে বয়স/ জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার নিয়ম জানতে চান ?
আপনার এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে।এবং এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল কাগজপত্র উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর এই বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ও ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করা হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চান, কিভাবে করতে পারেন ?
আপনার ভোটার আইডি কার্ডে দেওয়ার জন্য নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে আপনাকে আবেদন করতে হবে। তবে এই স্বাক্ষর শুধুমাত্র একবারই পরিবর্তন করা যাবে আর যাবে না।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে আপনার জন্ম তারিখ ঠিক লেখা হয়নি, আপনার কাছে প্রমাণের জন্য কোন কাগজপত্র নেই, কিভাবে সংশোধন করা যাবে ?
আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে যেয়ে আবেদন করতে হবে। এবং তদন্ত সাপেক্ষে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডির একটি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়?
জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডির এক তথ্য শুধুমাত্র একবারই সংশোধন করা যাবে। তবে ওই তথ্য যুক্তিযুক্ত না হলে কোন ধরনের সংশোধন গ্রহণযোগ্য হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here