আবারো অস্থিরতা মিয়ানমারে

0
89

এক বছরের জন্য দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সেনা বাহিনী , মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট উ মিন্ট সুয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ভোরে আটক করা হয় স্টেট কাউন্সিলর অন সান সূচি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং এনএলডির শীর্ষ নেতাদের। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা ,গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে , দেশটিতে সেনাবিহিনীর সাথে সরকারের চলমান দ্বন্দ্ব , এবং সেনা অভ্যুথানের শঙ্কার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল । গেল নভেম্বর এ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয় লাভ করে এনএলডি ।

তবে সেনাবাহিনী শুরু থেকেই ভোট কারচুপির অভিযোগ করে আসছিলো , আজ নতুন সরকারের প্রথম সংসদে বসার কথা থাকলেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বৈঠক স্থগিতের আহ্বান জানানো হয়েছিল , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসাইন এ বেপারে বলেন , “দৃশ্যত মনে হচ্ছে মিয়ানমার আবার সেনা শাসনে ফিরে যাচ্ছে , দেশটি ১৯৬২ – ২০১১ পর্যন্ত প্রায় ১১ বছর সেনা শাসনের অধীনে ছিল , ২০১১ থেকে তারা গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থার কথা বললেও আদতে সেটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না , সেখানে সামরিক বাহিনীর দৃশ্যত ক্ষমতা ছিল এবং এখনো যে কনস্টিটউশন এর অধীনে তারা যে অভভুথান ঘটিয়েছে সেখানেও তাদের ২৫ শতাংশ লোয়ার হাউস এ তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল , ফলে এক ধরণের সেনা শাসনের মধ্যেও কিন্তু তারা ছিল , তার মধ্যেও তারা লক্ষ করছিলো যে তাদের যে নিরংস্কুশ ক্ষমতা তারা তা হারাচ্ছিল , সেটি গত দুটি নির্ব্বাচনে পরিষ্কার ছিল , একটি হচ্ছে যে ২০ ১৫ সালে যে নির্বাচন ছিল সেখানে তারা ৫৬ আসন পেয়েছিলো লোয়ার হাউস এ , এবারের ইলেকশন এ তারা মাত্র ২১ টি পেয়েছে , অন্যদিকে এনএলডি ৪৭৬ টি আসন পেয়েছিলো , এইযে ব্যাপক ইলেক্ট্রোরাল যে পরাজয় সে পরাজয়টা তাদের কে ভবিষৎ বা বর্তমানের জন্য একেবারেই ক্ষমতাহীন হবার একটা অবস্থা তারা লক্ষ করছে , এবং তারা দেখছে জনগণের মাঝে তাদের তেমন একটা সমর্থন নেই , এই প্রেক্ষিতে গত ৬ দশক ধরে যে ক্ষমতা তারা ভোগ করে আসছে, মিয়ানমার রাষ্ট্রের ভিতর অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক , সামাজিক সবক্ষেত্রে যে আধিপত্য সেই বিষয় ব্যাপকভাবে প্রশ্ন বিদ্ধ হচ্ছে , সবচেয়ে বড় বিষয় সামনে এই ইধিবেশন বসলো এবং সামনে যে নির্বাচনের ফলাফল হয়েছে তার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের একটা বড় সম্ভাবনা ছিল , তার মাধ্যমে তাদের যে সাংবিধানিক ক্ষমতা ছিল সেটিও কিন্তু প্রশ্নের মুখে পড়লো , তো এরকম একটি প্রেক্ষাপটে আমরা লক্ষ করলাম যে মিয়ানমার আবারো সেনাসনের দিকে যাচ্ছে , বেসিক্যালি যাচ্ছে বলা যাবে না বরং অলরেডি তারা গিয়েছে , যদিও বিবিসি সহ বাকি সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে এটা একটা এপারেন্ট মিলিটারি কু, কিন্তু আমরা লক্ষ করছি এটি পরিষ্কারভাবেই একটি সামরিক অভভুথান , তারপর ও আমরা যেহেতু কোনো ক্লিয়ার স্টেটমেন্ট সূচির পক্ষ থেকে পাইনি এবং সামরিক নেতারা একটা নির্দেশনা দিয়েছেন , সার্বিকভাবে আমরা মনে করতে পারি , দীর্ঘদিন ধরে সেনা শাসনের অধীনে থাকা দেশটি তারা কিছুটা ওপেনিং হয়েছিল , সেটাও তারা বন্ধ করে দিয়েছে , আবার মিয়ানমার সামরিক শাসনের অভ্ভন্তরে চলে যাচ্ছে “এই কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা এবং অভ্ভন্তরীন রাজনৈতিক পরিবর্তন বিষয়ে অধ্যাপক আরো বলেন ” দেশটিতে একাধিক নির্ব্বাচন হলেও গণতন্ত্রের ভবিষৎ অন্ধকারেই ছিল , এই অন্ধকারটিকে আরো বেশি ঘনীভূত করেছে এই সেনা শাসন জারি, এবং এক বছরের যে জরুরি অবস্থা সেটির মাধ্যমে আসলে সামরিক বাহিনী , তার ক্ষমতাকে কনসোলিডেট করা বা ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার কাজটি করবে , পুরোপুরি মিয়ানমারের ভিতরে যে টুকু তারা সিভিলিয়ান রুল এর মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা হারিয়েছিল , সেটাকে তারা কংসলিডেট করবে এবং সারা বিশ্বের কাছে তারা যেটি জানাতে চায় এবং মিয়ানমারের ভিতরের যে গোষ্ঠী আছে তাদের তারা জানাতে চায় , সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে দেশটির সেনাবহিনী আছে এবং তাদের অধীনেই সবকিছু চলবে , এবং এরকম একটি প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে নিঃসন্দেহে প্রশ্ন আসবে, আমরা জানি যে অতীতে সেনা শাসনের মধ্যে ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে এবং ১৯৯১ ৯২ সালেও ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গারা এসেছিলো ,

আবার সেনা শাসকদের অধীনেই কিন্তু আলোচনা করে ফেরত গিয়েছিলো রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ, ফলে বাংলাদেশের জন্য কিংবা রোহিঙ্গাদের জন্য এই সেনা শাসন কিংবা যে ব্যবস্থা ছিল আগে সেটি কোনোটাই আসলে কার্যকর ছিল না , তবে এইযে পরিবর্তনটি যেটি আমার দেখছি , যদি সেইটা এখনো সেভাবে স্ট্যাবল হয় নি , তবে আগামী কয়েকটা সপ্তাহে আমরা বুঝতে পারবো , তবে আমার কাছে মনে হয় অং সান সুচির যে অবস্থা ছিল , তিনি রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কখনো সিম্পাথিটিক ছিল না। আমার মনে হয় এই ঘটনার ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের কোনো আশু সুবিধা হবে না , তবে নিঃসন্দেহে মিয়ানমারের নতুন সামরিক জান্তা একটা বড় ধরণের লেজিটিমেসি ক্রাইসিস এ ভুগবে , তাদের যারা সমর্থন করে আসছিলো , যেমন চীন , রাশিয়া , এমনকি ভারত তাদের কাছে একটা বড় প্রশ্ন দেখা দিবে যে সেনা শাসকদের তারা কিভাবে সমর্থন করবে এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here