বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের শীর্ষ দশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ও তাদের ব্যবসা সম্পর্কিত তথ্য

0
133

একটি দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি নির্ভর করে দেশটির ব্যবসায়ী বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। যে দেশের ব্যবসায়ীরা যত বেশী কৌশলি ও স্বনির্ভর হয়ে থাকে সেই দেশ অর্থনীতির দিক দিয়ে তত বেশী এগিয়ে থাকে। এই যেমন চিনকে দেখুন ব্যবসায়ী কলা-কৌশল ও মার-প্যাঁচের কারণে আমেরিকার মতো দেশকে নাকানি চুবানি খাইয়ে বিশ্বের অর্থনীতিতে শীর্ষ এক কান্ডারিতে পরিনত হচ্ছে ধীরে ধীরে। যদি বলি আমাদের দেশের কথা তবে অন্যান্য সব উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশকে চুনোপুটি বললে তা কোন অংশে কম যায় না কিন্তু তবুও আমাদের এই ছোট্ট দেশের অর্থনীতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের ব্যবসায়ীরা। গার্মেন্টস থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট সহ আরও অনেক বড় বড় কোম্পানি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের তালিকায়।

সিটি গ্রুপ, সরিষা তেল উৎপাদন দিয়ে যাত্রা যাত্রা শুরু হয়েছিলো এই প্রতিষ্ঠানটির কিন্তু এখন দেশের শীর্ষ সব ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম হোল এই প্রতিষ্ঠানটি। তীর আটা, ময়দা, সুজি, তেল সবই সিটি গ্রুপের পণ্য। যাত্রাবাড়ীর আজগর আলী হাসপাতালও এই গ্রুপের মালিকানাধীন। ১৯৭২ সালে ব্যবসায়ী ফজলুর রাহমান সিটি অয়েল মিলস প্রতিষ্ঠা করেছিলো। কালের বিবর্তনে আজ উন্নতির এই অবস্থানে পৌছেছে তারা। দশ হাজারেরও বেশী কর্মচারী কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানে। বছরে প্রায় একশ কোটি টাকা মুনাফা আয় করে সিটি গ্রুপ।

১৯৭৮ সালে কয়েক বন্ধু টাকা ধার করে চালু করেছিলো একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার নাম দেয়া হয়েছিলো ইউনাইটেড গ্রুপ। শূন্য থেকে শুরু করা সেই ইউনাইটেড গ্রুপ আজ লাখে পরিনত হয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতাল, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই গ্রুপের। শিক্ষা, চিকিৎসা ছাড়াও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আবাসন, রেস্টুরেন্ট ও হোটেল থেকে শুরু করে বেসরকারি বন্দর, লজেস্টিক সহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসার সাথে জড়িত এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি। এর সর্বমোট সম্পত্তির মুল্য প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকারও বেশী।

সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো কোম্পানি আছে তালিকার ৮ নাম্বারে। বাংলাদেশের পুঁজি বাজারে সব থেকে বেশী বিনিয়োগ এই কোম্পানির। মূলত ঔষধ রপ্তানি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলো তারা কিন্তু এখন ঔষধের পাশাপাশি গার্মেন্টস, আবাসন ও মিডিয়া ছাড়াও নানা রকম ব্যবসায় জড়িত তারা। ১০৩ টি দেশে রপ্তানি হয় বেক্সিমকোর পণ্য। আই এফ আই সি ব্যাংক, ইন্ডিপেনডেন্ট, ইয়োলো, ঢাকা ডায়নামাইটস সহ আরও অনেক কোম্পানির মালিক তারা। ৬৫ হাজার কর্মী কাজ করে এদের আন্ডারে, এই কোম্পানির টোটাল সম্পদের পরিমান দেড় বিলিয়ন ডলারেরও বেশী।

সামান্য একটা বিড়ির কোম্পানি থেকে দেশের সেরা কর দাতায় যে পরিনত হয়েছে সেটা হলো আকিজ গ্রুপ। ৪০ এর দশকে তামাক দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন টেক্সটাইল, তামাক, সিরামিক, প্রিন্টিং ও প্যকেজিং, ঔষধ ও ভোক্তাপণ্য সহ আরুনেক কিছুর ব্যবসা করে এই কোম্পানি। এখন তাদের আয়ের বড় অংশটি আসে আকিজ ফুড এন্ড ব্রেভারেজ থেকে। রাজধানীর আদদীন হাসপাতালের মালিকও আকিজ গ্রুপ। ৭০ হাজারেরও বেশী কর্মী কাজ করে এই গ্রুপে। টানা কয়েক বছর সেরা করদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এই আকিজ গ্রুপ।

পুস্টি সয়াবিন তেল বিক্রি করে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীতে পরিনত হয়েছে টি কে গ্রুপ। ১৯৫২ সালে গোড়ে ওঠা এই কোম্পানির রয়েছে জাহাজ ভাঙ্গার কারখানা, তিল মিল, চা বাগান, কাগজের মিল, কন্টেইনার ও আরও অনেক ব্যবসা রয়েছে এই কোম্পানির। ৩০ হাজারেরও বেশী কর্মী ও ২৫০ কোটি টাকার রেভিনিউ নিয়ে তালিকার ৬ নাম্বারে আছে টিকে গ্রুপ।

স্কয়ার গ্রুপ, রাঁধুনি গুড়া মসলা, মাছরাঙা টেলিভিশন, স্কয়ার হাসপাতাল, টয়লেট্রিস, কনজিউমার প্রডাক্ট ও অন্যান্য আরও অনেক কোম্পানি রয়েছে এই গ্রুপের। স্কয়ার গ্রুপ এই জন্যই আছে আমাদের তালিকার ৫ নাম্বারে। স্যামসাং এইচ চৌধুরীর হাতে প্রতিষ্ঠিত স্কয়ার গ্রুপ মোটামুটি শূন্য থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। রিয়েল স্টেট কোম্পানি, মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক, মিডিয়াকমের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিক তারা। ৩০ হাজারেরও বেশী মানুষ কাজ করে এই গ্রুপে।

যমুনা ফিউচার পার্ক, যমুনা ওয়েল, যমুনা টেলিভিশন, যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স ও দৈনিক যুগান্তর সহ অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক যমুনা গ্রুপ। নুরুল ইসলাম বাবুলের হাতে গড়া এই গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। যমুনা সপিং সেন্টার, আমিউজমেন্ট পার্ক, রাসায়নিক, গার্মেন্টস, ব্রেভারেজ ও আবাসন সহ নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এই গ্রুপ। কয়েকবার শীর্ষ কর দাতার পুরুস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুল।

জনবলের দিক দিয়ে দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান হোল মেঘনা গ্রুপ। রাসায়নিক সিমেন্ট, ফ্রেশ, নম্বর ওয়ান, সুপার পিওর, একটিফিট,ভোক্তা পণ্য, রিয়েল স্টেট, বিমা, সিকিউরিটিস, ইউটিলিটি ইত্যাদি ব্যবসায় জড়িত মেঘনা গ্রুপ। বিশেষ করে ভোজ্য তেল, সিমেন্ট ও সাইকেল ব্যবসায় এই কোম্পানির সুনাম অনেক। শিল্পপতি মোস্তফা কামালের হাতে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রুপের বাৎসরিক রেভিনিউ ১৫০ কোটি টাকারও বেশী।

সবাই নিশ্চই মনে মনে ভাবছেন বসুন্ধরা গ্রুপ কোথায় গেলো, এখনো কেন এই গ্রুপের নাম আসছে না। ঠিক বলেছেন, বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে কথা হবে আর বসুন্ধরা গ্রুপের নাম আসবে না এটাতো হতেই পারে না। এই দেশে আবাসন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত তারা। বসুন্ধরা সিটিতো সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের সপিংমলের। ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের আওতায় অনেক গুলো টিভি চ্যানেল, প্রিন্টিং ও অনলাইন মিডিয়ারও মালিক এই বসুন্ধরা গ্রুপ। এর বাইরেও খাবার, তেল, টোয়লেট্রিজ, টিস্যু ও কনভেনশন সেন্টার সহ নানা ধরনের ব্যবসা আছে এই গ্রুপের। এই গ্রুপের মালিক আহমেদ সাহ সোবাহান তো দেশের শীর্ষ ধনিদেরই একজন।

অনেকেই হয়তো ভেবে রেখেছিলেন বেক্সিমকো বা বসুন্ধরাই হয়তো বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ শিল্প গ্রুপ। দুঃখিত দর্শক আপনাদের ধারণা ভুল। দেশে ব্যবসার দিক দিয়ে শীর্ষে আছে এ কে খান এন্ড কোম্পানি। চট্টগ্রাম ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৯৪৫ সালে আবুল কাসেম খানের হাত ধরে। তার নামেই রাখা হয় এই কোম্পানির নাম। সি আর টায়ারে কম্পানি প্রথম স্থাপন করেন তারা। আছে রাবারের বাগান, প্লাই উড ফ্যাক্টরি, ম্যাচের ফ্যাক্টরি, কোল্ড স্টোরেজ, টেলিকম, সিকিউরিটি, প্যান ফেব্রিক কোম্পানি সহ আরও নানা রকমের ব্যবসা। বেসরকারি উদ্যগে নরসিংদিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনও করেছে তারা। এছাড়াও পাঁচ তারকা হোটেলেরও মালিক এই কোম্পানি।
প্রায় প্রতিটি কোম্পানি শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে আজ এই পর্যন্ত পৌছেছে তারা। আপনারা যারা এই তালিকাটি বিশ্বাস করতে পারছ্রন না তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এগুলো কিন্তু আমরা আমাদের মন গড়া তথ্য দেই নি। বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল আই এফ আই সি এর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের তালিকায় এই গ্রুপ গুলোর নাম উঠে এসেছে। এই তালিকা ছাড়াও আমরা যদি অন্য ব্যবসায়িদের নাম দেখি তবে আমাদের মতে এই তালিকায় আরও কিছু নাম যোগ হওয়ার প্রয়োজন ছিলো যেমনঃ প্রাণ, আর এফ এল, আবুল খায়ের, এ সি আই, পারটেক্স ও আনোয়ার গ্রুপ অফ কোম্পানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here