মডেল পরিচয়ে ২৮ বিয়ে! প্রবাসীর কোটি টাকা লোপাট

0
75

রোমানা ইসলাম স্বর্ণা বাংলাদেশের মডেলের পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রেম করতেন তিনি , এই মহিলা ফেসবুকে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের প্রথমে টার্গেট করে তাদেরকে পরে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে লুট করত টাকা। তার কখনও স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স আবার কখনও আর্থিক সংকট সহ নানা কারণ দেখিয়ে টাকা নেওয়ার ফন্দি পাতত। আবার কখন ভালো টাকা পয়সা পরিবেশ সুঠিক থাকলে বিয়েও করতেন তিনি । তারপর শুরু হত তার ব্লাক মিল খুব অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও করে এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন জমি-ফ্ল্যাট সাথে অনেক টাকা, ।

এই রকম প্রতারণা আরও ২৮ জনের সঙ্গে করেছেন এই মডেল। রোমানা ইসলাম স্বর্ণা পরিবারের লোকজনও এই ব্লাক মিলের কাজে তাকে সহায়তা করেছেন। পুলিশের সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদে এ কাজে তারা জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন এটা, তিনি নিজেকে ফেসবুকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট খুলতেন মডেল ও অভিনেত্রী পরিচয় দিয়ে এরপর সেই অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল গুলোতে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করতেন এবং পরে ধনী প্রবাসীদের টার্গেট করে তাদেরকে প্রেমের জালে ফাঁসাতেন। তারপরই বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্বামীহীন সংসারে আর্থিক অনটনের কথা বলে হাতিয়ে নিতেন টাকা। এসব করতে গিয়ে ২৮টি বিয়েও করেছেন তিনি, পুলিশ জানায় এ কথা ।

অভিযোগ উঠেছে রোমানার বিরুদ্ধে কিছুদিন সেই রাস্তা অবলম্বন করে সৌদি আরবে থাকেন প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েলের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে এক বছরে নেন ২.৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে,
সেই সম্পর্কে সৌদি আরবের প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, রোমানা ঢাকার লালমাটিয়ার দিকে ফ্ল্যাট কেনার নাম করে আমার কাছ থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা নেয়। ও আমাকে আগে বাসায় দেকে নেয় এবং আমাকে ডেকে কিছু একটা খাইয়ে অজ্ঞান করে নগ্ন ছবি তুলে ব্লাক মেইল করে ,আমার থেকে স্ট্যাম্পে সাইন নিয়ে নেয় ও আমার সাথে সম্পর্ক তৈরি করে । এভাবেই রোমানা আমাকে জোর করে বিয়ে করে। এর পরে সে কিছুদিন আমায় তার বাসায় বন্দি করে রাখে । রোমানা সুযোগ বুঝে এরই মধ্যে আমাদের নানা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও কৌশলে ধারণ করে । পরে আমায় সে এইসব ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয় এবঙ্গেই ভিত্তিতে সে আমার জমি দখল নেয় । কিছুদিন পরে রোমানা হঠাৎ একদিন আমাকে ডেকে ডিভোর্স দেয়।

রোমানা ইসলাম স্বর্ণার পরিবারের প্রতিটি লোকই তার অপজিট লিঙ্গের মানুষের সাথে এই রকম একই নীতিতে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের অভিনয় করে অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে পুলিশ জানায় ।

এই ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (DMP) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (DC) হারুন অর রশীদ বলেন, রোমানা, তার মা, তার ভাই ও ভাইয়ের বউ ও রোমানার ছেলেসহ পরিবারটির সবাই এই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে আসার পর বাসায় নিয়ে উলঙ্গ করে তার ছবি তোলে তারা। এরপর টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। পরে ওই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here