শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০
রাত ১২:১৪

আজ শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২০ | ৭ কার্তিক, ১৪২৭

বিজ্ঞাপন বা যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ +88 01880 16 23 24

Home অন্যান্য ৫ সন্তানের জননী ভাসুরের কুনজরে অত্যাচার নির্যাতন

৫ সন্তানের জননী ভাসুরের কুনজরে অত্যাচার নির্যাতন

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের মাসুক মিয়ার সাথে ১৪/১৫ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই গ্রামের রমিজ আলীর কন্যা হালিমা খাতুনের। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর সংসার সুন্দভাবেই চলতে থাকে। মাসুকেরা মোট চার ভাই। শফিক, সেলিম ও সবুজ। বিগত ৩ বছর পূর্বে মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর থেকেই ছোট ছোট ৪ মেয়ে ও ১ পুত্র সন্তান নিয়ে চরম অসহায় পড়েন বিধবা হালিমা খাতুন। আপন ভাই রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাবার পর মানবিকতা আরো বেশি থাকার কথা থাকলেও মনে হয় যেন একটু খুশিই ভাসুর শফিক। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিও গ্রাস করার হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত ভাসুর ও দেবর। স্বামী মৃত্যুর পর থেকেই হালিমা খাতুনের প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে শফিকের। বারবার চেষ্টার পর কুদৃষ্টিতে সাড়া না দেয়ায় হালিমার উপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। যে কোন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হালিমাকে শুরু করে দেয় মারপিট। এমনকি বিধবার সেই ছোট সন্তানরাও রেহাই পায়নি। তাদেরকেও মারপিট সহ দেয়া হয় হত্যার হুমকি। এমন ভয়াবহ বক্তব্যই দেয় সন্তানরা। এমনই ঘটনা ঘটে গত ৪ আগস্ট রাতে। রাতে বিধবা হালিমা নিজ মোব্ইালে কারো সাথে কথা বলছিলেন। এসময় চুপিসারে শফিক ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকেই হালিমাকে চুলের মুটিধরে টানাহেচড়া করে হাতের মোবাইলসেটটি কেড়ে নিয়ে যায়। এসময় মিথ্যাচারের মাধ্যমে শফিকের অন্য আরো দু ভাই সেলিম ও সবুজও শফিকের পক্ষ নেয় এবং বলতে থাকে হালিমা খারাপ হয়ে গেছে। পরদিন ৫আগস্ট বুধবার পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে নেন হালিমার বাবা ভাই এবং সাথে সাথেই হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখনো চিকিৎসাধীন। গত ৯ আগস্ট হালিমা ৪জনকে আসামী করে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি এফআইআর গণ্যে রেকর্ড করতে বাহুবল থানাকে নির্দেশ দেন। এদিকে হালিমাকে পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধারের পর পরই সুচতুর শফিক অতিচালাকি করে হালিমা ও তার বাবা ভাইকে আসামী করে ৩ লাখ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে খুব সঙ্গোপনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দেয়া হয় তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ওই শফিক একই গ্রামের ময়না মিয়া নামে এক ব্যক্তিকেও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মামলা করে হয়রানী করে আসছে। তবে বিষয় মিমাংসার জন্য স্থানীয় কয়েক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের মাঝেই থমথমে বিরাজ করছে। তবে সালিশী চেষ্টার কারণে উভয় পক্ষই কিছুটা নমনীয় বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -sidebar sqr ad

Most Popular

কোটচাঁদপুর উপজেলার ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কর্মির উপর অতর্কিত হামলা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর ৪নং ওয়ার্ডের সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম (রনি) অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, কোটচাঁদপুর পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সহিদুজ্জামান...

পিকাপের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত এই ছাত্রী নিতী পড়াশোনার পাশাপাশি একটি পার্ট টাইম জব করতো। জব থেকে নিজের বাসা ভাটারায় ফেরার...

জোহরের নামাজ চার রাকআত হইবার কারণ।

জোহরের নামাজ হযরত ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম চারি কারণে চারি রাকআত নামাজ পড়িয়াছিলেন। ১ম রাকআত - আল্লাহ তায়ালা তাঁহার কার্যে রাজী থাকার জন্য, ২য় রাকআত -...

ফজরের নামাজ দুই রাকআত হওয়ার কারণ!

প্রশ্নঃ- নামাজসমূহ ২/৩/৪ রাকআত হইবার কারণ কি? উত্তরঃ- হযরত আদম আলাইহিসসালাম বেহেশত হইতে দুনিয়ায় পতিত হইবার পর যখন রাত্রির অন্ধকার আসিয়া উপস্থিত হইল, তিনি...

Recent Comments