রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
রাত ১২:৪৫

আজ রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২ আশ্বিন, ১৪২৭

বিজ্ঞাপন বা যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ +88 01880 16 23 24

Home অন্যান্য জেলা জুড়ে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে খাবার

জেলা জুড়ে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে খাবার

ভোলা জেলার প্রতিটি উপজেলা এবং গ্রামীণ হাটবাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে খাবার।ভয়ংকর ছোঁয়াচে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আর পর্যাপ্ত কঠোর নজরদারী এবং যথাযথ আইন প্রয়োগের অভাবে জমজমাটভাবেই চলছে এ ব্যবসা।

পুরো দেশ জুড়ে ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিএসটিআইয়ের অভিযান কেবল শহর কেন্দ্রীক ও প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তো সেটা পরিলক্ষিতই হয় না।

এধরনের অভিযান ভোলার সর্বত্র চালানো জরুরি প্রয়োজন। জেলার অধিকাংশ জনগোষ্ঠী কৃষক-শ্রমিকের কাজ করে তারা সহজ-সরল-নিরক্ষর ও অসচেতন। নিম্নমান, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার তৈরী ও তাদের কাছে বিক্রি করে প্রতিনিয়তই প্রতারিত করা হচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক সরকারী স্যানিটারী ইন্সপেক্টর নামে থাকলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী করা এসব ভেজাল খাবার বিক্রি বন্ধ করার পর্যাপ্ত কোন কার্যকরী ভূমিকা তদের নিতে দেখা যায় না।সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর প্রতিমাসে এদের কাছ থেকে মাসোহারা নেয় বলে জানা যায়।
এ প্রতিবেদক সরেজমিন ঘুরে দেখতে পান, যত্রতত্র খোলা খাবারের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য কখনো রাস্তার পাশে, কখনো স্কুলের পাশে, কখনো হাটবাজারে এসব ভোগ্যপণ্য বিক্রি করে। কেউ কোন ধরনের বাধা বা প্রতিরোধ না করায় প্রবল উৎসাহে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভের আশায় অনেক লোকজনই চা-নাস্তা-পান আর ফাস্টফুডের দোকান দিয়ে বসেছে।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ উপেক্ষা করে, সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা, মাঠের কৃষক, শ্রমিক আর পথচারীরা নির্বিচারে এসকল দোকানের খাবার কিনে খাচ্ছে। ফলে তারা ছোঁয়াচে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও গ্যাস্টিক, আলসার, ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা ইত্যাদির মতো নানা মারাত্মক রোগে ভূগছে।

এরকম খোলা খাবারের দোকানের জনৈক মালিক আমি গরিব মানুষ আমার মূলধন কম। তাই পরিরারের ভরনপোষনের জন্য অল্প চালানে বেশী লাভের আশায় এই দোকান চালাই। তাছাড়া আমার দোকানে দৈনিক তিনজন কর্মচারী কাজ করে তাদেরও মুজুরী দেয়া লাগে। গ্রামের লোকজন সস্তায় খাবার খেতে চায়, তাই অল্প দামে মালামাল কিনে খাবার তৈরী করে। এসব খাবার খেয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

স্বাস্থ্য ও পুস্টিবিধদের মতে, খোলা খাবার খাওয়ায় উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি। পেটের পীড়ার নানা রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও করোনা ভাইরাসের মহামারী দেখা দিতে পারে।

উল্লিখিত সমস্যার প্রেক্ষিতে ও সার্বিক বিবেচনায় খোলা খাবারের দোকান ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি বন্ধ করার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারী, প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার যৌথ ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পর্যাপ্ত ও জোরদার করার প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহলের এই ব্যাপারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে খোলা খাবার ও করোনা ভাইরাসের অপকারীতার বিষয়ে সচেতন করতে এবং প্রশাসনকে সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসতে হবে।অন্যথায় জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হবে।

গাজী তাহের লিটন, ভোলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -sidebar sqr ad

Most Popular

কোটচাঁদপুর উপজেলার ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কর্মির উপর অতর্কিত হামলা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর ৪নং ওয়ার্ডের সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম (রনি) অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, কোটচাঁদপুর পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সহিদুজ্জামান...

পিকাপের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত এই ছাত্রী নিতী পড়াশোনার পাশাপাশি একটি পার্ট টাইম জব করতো। জব থেকে নিজের বাসা ভাটারায় ফেরার...

জোহরের নামাজ চার রাকআত হইবার কারণ।

জোহরের নামাজ হযরত ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম চারি কারণে চারি রাকআত নামাজ পড়িয়াছিলেন। ১ম রাকআত - আল্লাহ তায়ালা তাঁহার কার্যে রাজী থাকার জন্য, ২য় রাকআত -...

ফজরের নামাজ দুই রাকআত হওয়ার কারণ!

প্রশ্নঃ- নামাজসমূহ ২/৩/৪ রাকআত হইবার কারণ কি? উত্তরঃ- হযরত আদম আলাইহিসসালাম বেহেশত হইতে দুনিয়ায় পতিত হইবার পর যখন রাত্রির অন্ধকার আসিয়া উপস্থিত হইল, তিনি...

Recent Comments