শনিবার, ১১ জুন ২০২২, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

আওয়ামিলীগের দলীয় সংঘর্ষে ১ জন নিহত, ৩০ জন আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • সময় কাল : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে।
Spread the love

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় সংঘর্ষ চলাকালীন সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার তিন সপ্তাহের মধ্যে একই গ্রুপের মধ্যে আরেক সংঘর্ষের সময় গতকাল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন।

একটি থানার অফিসার ইনচার্জ এবং তার পাঁচ সহকর্মী সহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের বারোজন গুলিবিদ্ধ আঘাতের টানাপড়েন। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বসুরহাট বাজারে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই, এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর জানান, আজ নোয়াখালী প্রশাসন বসুরহাটে ১৮ ঘণ্টার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।গতকাল সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যখন কাদের মির্জার সমর্থকরা বাদলের সমর্থকদের দ্বারা আয়োজিত সমাবেশে হামলা চালিয়ে হামলা চালিয়ে প্রতিবাদ করার জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের প্রাক্তন সভাপতি খিজির হায়াত খানের উপর হামলা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, উভয় দল একে অপরকে তাড়া করে ইটভাটা ছুঁড়ে মারে, অপরিশোধিত বোমা বিস্ফোরিত করে এবং দুই ঘণ্টারও বেশি গুলি চালায়, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে আল ফরিদ (২২) চর ফকিরা ইউনিয়নের চরকলি গ্রামের মমিনুল হকের ছেলে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিজ জানান, আলাউদ্দিনের আগমনে মৃত্যু হয়েছিল। তাকে গুলি করে ছুরিকাঘাত করা হয়। ডাক্তার জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ গুলিতে ১২ জনকে তার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আ.লীগ নেতারা জানিয়েছেন, মৃত আলাউদ্দিন ছাত্রলীগ কর্মী হলেও উভয় গ্রুপই তাকে তাদের মানুষ বলে দাবি করেছে। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কোম্পানীগঞ্জ আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল অভিযোগ করেছেন যে, কাদের মির্জার অনুসারীরা মাকসুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তাদের সমাবেশে হামলা চালালে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

বাদল এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। যোগাযোগ করা হলে কাদের মির্জা বলেন, জনসভায় কে আক্রমণ করেছে তা তিনি জানেন না। তিনি তার এবং তার পুরুষদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল হক জানান, ঝগড়া দলগুলোকে শান্ত করতে গিয়ে থানার ওসি ও আরও পাঁচ পুলিশ আহত হয়েছেন।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রব -11 এর একটি দল এবং অতিরিক্ত পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গুলিবিদ্ধ হন।

উভয় দলই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছিল।

কাদের মির্জা গত দু’মাস ধরে নোয়াখালী ও ফেনীতে আ.লীগ সদস্যদের দ্বারা দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে আসছেন। একাধিক অনুষ্ঠানে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি সরকারী কর্মকর্তাদের উপরে প্রচণ্ড নেমে আসেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি কাদের মির্জা ও তার অনুসারীরা “দুর্নীতির সাথে জড়িত” বলে কিছু সরকারী কর্মকর্তার বদলি এবং কিছু দলীয় ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আধ দিন ব্যাপী বন্ধ ঘোষণা করে। স্থানীয় আ.লীগ নেতাদের দাবি, কাদের মির্জার সমর্থকরা দলীয় কার্যালয় থেকে সমস্ত আসবাব কেড়ে নিয়ে পরে তা তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর
এই নিউজ পোর্টাল এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ ।
Design & Developed by Online Bangla News
themesba-lates1749691102