গুগলের সহযোগিতায় সিআইডির এক নজিরহীন পদ্ধতি! গেপ্তার হলেন তরুণ ।

0
74
গুগলের দেয়া তথ্যে গ্রেপ্তার

স্মার্ট ফোনে ধারণ করে রাখা বাচ্চা যৌন নির্যাতনের একটি ভিডিও শনাক্ত করে ইন্টারনেট ভিত্তিক সার্চ ইঙ্গিন গুগল। এরপর গুগলের দেয়া তথ্যে বাংলাদেশের বরিশালের সেই নিপীড়ন কারিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ।

দেশের অপরাধ তথ্য বিভাগ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রেজাউল মাসুদ বলছেন, এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তারা আমাদের অনেক তথ্য দিচ্ছে।

“আমরা এগুলো যাচাই বাছাই করে দেখব। যদি তার মধ্যে সরাসরি শিশুদের নির্যাতনের কিছু ইন্টেলিজেন্স, কিছু সতর্কতামূলক । আমরা ঐ গুলো যাচাই বাছাই করে বিভিন্ন ঘটনায় জাচাই বাচাই করে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

মোবাইলে শিশু নিপীড়নের তথ্যটি ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকা মোবাইল ডিভাইসে রাখার পরেই শনাক্ত করেন ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল। এরপর গুগল সেটি জানায় ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) কে।

তারা এই তথ্যটি বাংলাদেশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন (criminal investigation department) সিআইডির বিভাগ এর কাছে পৌঁছে দেয়।

এরপর সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন (criminal investigation department) বিভাগ ওই নিপীড়ককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেন।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন(National Center for Missing & Exploited Children)( (এনসিএমইসি) যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান – সাধারণত যারা শিশু যৌন নির্যাতন ও শিশু পর্নোগ্রাফি বন্ধে কাজ করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত গুগল, ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের নেটওয়ার্কে আওতাবুক্ত শিশুদের যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সমূহ এই প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে থাকে। তারা সেসব তথ্য বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে এই এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশের অপরাধ তথ্য বিভাগ (সিআইডি)।

বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রেজাউল মাসুদ জানান, সংস্থাটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি অভিযান চালানো হয়েছে।
বরিশালের শিশু নিপীড়নের ওই ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় দেড় বছর আগে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই নিপীড়ক তরুণকে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে গত ১২ই জানুয়ারি গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তিনি সেখানে শ্রমিকের কাজ করতেন। বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তিনি শিশুটিকে নিপীড়ন করেছিলেন।

বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শিশু নিপীড়নের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই তরুণ।

কিন্তু ঘটনার শিকার শিশুটি পরিবারবর্গ মামলা করতে রাজি হননি । এর ফলে সিআইডির এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রেজাউল মাসুদ বলছেন, ”আমার তদন্ত করতে গিয়ে পেয়ছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়ে শিশু বা ছেলে শিশু নিপীড়নের ঘটনাগুলো ঘটছে নিকটাত্মীয় ও
প্রতিবেশীদের মাধ্যমে । ফলে আমরা গ্রেপ্তার করার পরেও অনেক সময় পরিবারগুলো মামলা করতে চায় না।”

তিনি আরো জানান, গুগল বা ফেসবুকের মাধ্যমে পাওয়া আরও কিছু তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। সেগুলো নিয়েও আরও কিছু অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here